Monday, January 25, 2010

প্রজাতন্ত্রী ভারতবর্ষ:চাওয়া পাওয়া

আবার বছর ঘুরে প্রজাতন্ত্র দিবস এসে গেল.গত ৬০ বছর এ আমাদের রাষ্ট্র অনেকটা বড় হয়েছে সে এখন শৈশব ও কৈশোর কাটিয়ে যৌবনে পা দিয়েছে বলা যায়.তাই এই প্রজাতন্ত্র দিবস এর প্রাক্কালে কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে স্মৃতি রোমন্থন করাটা খুব একটা অস্স্বাভাবিক হবে না.এখানে মনে রাখতে হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ইতিহাস এ ৬০ বছর বয়স এমন কিছু নয়!যাইহোক এই স্মৃতি রোমন্থন এ যে ঘটনা প্রথম এই মনে পরে ত়া হলো শৈশব এ পিতার মৃত্যু এবং বৈমাত্রেয় ভ্রাতার আক্রমন.এই আঘাত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই "বন্ধু" চীন এর বিশ্বাসঘাতকতা শুরুতেই অবশ্য প্রাপ্তির খাতায় জমা পড়েছে বেশ কিছু.যেমন দেশীয় রাজ্য গুলির ভারতীয় গণরাজ্য এ অন্তর্ভুক্তি.এই কাজ হয় মূলত "বিসমার্ক অফ ইন্ডিয়া" সর্দার পটেল এর উদ্যোগে.ব্রিটিশ রাজ চেয়েছিল ভারত এর BALKANISATION .অর্থাৎতুর্কি শাসন এর পরে পূর্ব ইউরোপের যে খন্ডিত দশা হয়ে ছিল ভারত এর যেন তাই হয়.এর সূচনা করেছিল তারা ভারত ভাগ এর মধ্য দিয়ে. কিন্তু তাদের এই উদ্দেশ্য সফল হয়নি এটা বলাই বাহুল্য.এছাড়া প্রথম সাধারণ নির্বাচন.দেশ এর বেশির ভাগ মানুষ নিরক্ষর তবুও সফল সেই নির্বাচন.নেহরুর "আধুনিক ভারত এর মন্দির" গুলি (আই আই টি, রাষ্ট্রীয়শিল্প সংস্থাগুলি,বড় বড় বাঁধ) নির্মান সেই শুরুর দিকেই.পরবর্তী কালে এই মন্দির গুলিতেই জ্ঞানও শিল্পের চর্চায় সিদ্ধি লাভ করেছে জাতি.সেই শুরুর দিনগুলিতে NEHRUVIAN SOCIALISM এর
রোমান্টিকতায় মেতে আমরা সোভিয়েত এর প্রেমে পড়েছিলাম, যে প্রেম কযেক দশক ধরে চলে.যায় হোক স্বাধীনতা পরবর্তী কযেক দশক এ আমাদের অর্থনীতির যে বিকাশ ছিল সেটাকে বলে "THE HINDU RATE OF GROWTH " .এই ধীর গতির অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও জনসংখ্যার বিস্ফোরণে জাতির প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়.অর্থনীতির সেই স্থবির পর্যায় লেইসেন্স পারমিট রাজ নামে কুখ্যাত.বহির্জগত থেকে সম্পূর্ণ বিছিন্ন ছিল সেই অর্থনীতি.অর্থনীতিরক্ষেত্রে গুরুত্ব পূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ষাট এর দশক এর গ্রীন REVOLUTION(যার উদ্ভব পাঞ্জাব হরিয়ানায়) এবং WHITE REVOLUTION (গুজরাট এর আমূল).
খাদ্যের বাপরে অন্তত আমরা এতদিনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারলাম.আশির দশক এ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছুটা উন্নতি হয়.এটি এক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পরে আই টি এর বিকাশ এ বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল.তবে সবথেকে
যুগান্তকারী ঘটনা হলো ৯২ এর আর্থিক সংস্কার.এর মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতি পলায়নীমনোবৃত্তি ছেড়ে প্রতিযোগিতার মানসিকতা নিতে পেরেছে.মুক্ত অর্থনীতির বাজার এ বেইদেশিক সংস্থা ব্যবসা করার সুযোগ পাওয়ায় কিছু দেশীয় সংস্থার হয়ত স্বার্থ ক্ষুন্ন হচ্ছে কিন্তু দেশীয় ক্রেতা উপকৃত হচ্ছে.অন্যদিকে প্রতিযোগিতার বাজার এ দেশীয় সংস্থা নিজেদের মাণ উন্নত করার তাগিদ অনুভব করছে.গত দশক ধরে আমরা দেখেছি ভারতীয় শিল্প সংস্থা গুলি কিভাবে বিদেশী শিল্প সংস্থার সঙ্গে টক্কর দিয়ে চলেছে.টাটা স্টীল এর শুরুর দিকে এক ব্রিটিশ বলেছিলেন"IF INDIANS CAN PRODUCE STEEL ,I WILL EAT EVERY
OUNCE OF IT ".সেই টাটা স্টীল বিলেতের বিখ্যাত সংস্থা কোরাস অধিগ্রহণ করলো.আজ টি সি এস ,উইপ্রো,ইনফোসিস বিদেশি সংস্থা আই বি এম এর সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতায় নেমেছে.কিন্তু না পাওয়ার তালিকাও খুব কম নয়.দারিদ্র,শিশু মৃতুর হার ,শিক্ষার হার এই সব সুচক যার মাধ্যমে উন্নযন এর মূল্যায়ন করা হয় সে সব দিক থেকেই আজ ও দেশ সামগ্রিক ভাবে অনুন্নত.ত়া হোক.প্রতিবেশী সমবয়েসী চীন হয়ত উন্নয়ন এর দিক থেকে আমাদের থেকে এগিয়ে .কিন্তুসেখানে মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে.উপমহাদেশ এর অন্য রাষ্ট্র গুলির মত খন্ডিত হয়নি ভারত.একই সময় এ স্বাধীনতা পাওয়া সাব সাহারান দেশ গুলির থেকে আমাদের দেশ এর উন্নয়ন এর হার অনেক বেশি.লক্ষনীয় বিষয় হলো শুরুর দিকে দেশ এর রাজনৈতিকরা ছিলেন জনগণ এর থেকে এগিয়ে তারা "দেশ" হিসাবে এই ভূখন্ড কে অনুধাবন করেছিলেন.প্রাদেশিক সংকীর্ণতার উর্ধ্হে উঠে দেশ এর কল্যাণ এর কথা ভেবে ছিলেন.উন্নয়ন এর নির্দিষ্ট কর্ম সূচী ছিল.আজ কিন্তু ঠিক তার বিপরীত.আজ দেশ এর মানুষ মানসিকতার দিক থেকে অনেক উর্ধে,রাজনীতিকরা পশ্চাদমুখী .তাই দেশ এ সাধারণ ভাবে রাজনীতিক দের প্রতি ক্ষোভ.




Friday, January 22, 2010

পুরানো সেই গানের কথা

বাংলা গানের রতনরাজির মধ্যে এক মাত্র রবীন্দ্রসঙ্গীত ই আজ ও তার স্বমহিমায় এবং শুদ্ধ রূপে

প্রচলিত আছে.অন্য গান যেমন রজনীকান্তর গান কিম্বা দীজেন্দ্রগীতি আগের মত প্রচলিত নয়,
এই ধরনের গান এর চর্চা কিছু নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী ছাড়া সাধারণ লোকে বিশেষ করে না.তুলনায়
রজনীকান্তর গান কিম্বা দীজেন্দ্রগীতি শোনার আগ্রহ কম.এখন প্রশ্ন হলো কেন রবীন্দ্রসঙ্গীত
অন্য ধারার গান এর থেকে আরও বেশি গ্রহন যোগ্য হলো মানুষের কাছে?সম্ভবত এর কারণ হলো বিশ্বভারতী এর মত প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে রবীন্দ্রসঙ্গীত এর প্রসার.প্রথম যুগের কিছু ভালো শিক্ষক রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখানোর কাজটি যেভাবে যত্ন নিয়ে করেছেন তার ই ধারা আজ ও বজায় আছে.গানের শুদ্ধতা বজায় রাখার বাপরে বিশ্বভারতীর ভূমিকা অপরিসীম.এছাড়া গুরুদেব এর কিছু কাছের মানুষ স্বরলিপি লিখে এবং সঠিক শিক্ষা দানের মাধ্যমে পরের প্রজন্মের কাছে সেই গান কে পৌছে দিয়েছেন.বিশ্বভারতীর অনুসরণ এ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ভাবে সেই এক ই ভাবে কাজ করেছে.অন্য ধারার গানগুলিতে যেমন অতুলপ্রসাদী বা রজনীকান্তর গান বা নজরুলগীতির ক্ষেত্রে তা হয়নি.

Thursday, January 21, 2010

নিঃশর্ত সুখ

সেই গানটির কথা মনে পরে?"সবাই তো সুখী হতে চায়".মান্না দের দরদী কন্ঠে এই গান শোনেনি এমন লোক খুব কম আছে.সেই সুখ নামের অচিন পাখি কামনে আসে যায় সে আমাদের অজানা.কিন্তু ধরতে পারলে তাকে মনবেরী পড়ানোর চেষ্টাই আমরা সর্বদা সসবাস্ত!আমাদের ধারনায় সুখ হলো কতগুলি চাহিদা পূরণ.যদি সেই চাহিদা পূরণ হয় আমরা সুখী নইলে আমরা দুখী.চাহিদা পার্থিব প্রাপ্তি হতে পারে
যেমন গাড়ি বাড়ি গহনা এই সব.চাহিদা মানসিক হতে পারে যেমন খ্যাতি বা সম্মান.কিন্তু আমরা যদি মানসিকতার সামান্য পরিবর্তন করি তবে সুখ হয় অনন্ত.সুখ থাকে সর্বদা বিরাজমান.আমাদের সুখ হবে যাবতীয় সর্ত নিরপেক্ষ.তখন সুখ গাড়ি বাড়ির উপর নির্ভর করে না.আমরা সুখী হব কারণ সুখী থাকাই এই জীবন সব থেকে ভালো ভাবে বাঁচার পথ.আমাদের অন্তরের সেই নিসর্ত সুখ ই পরম সুখ(ABSOLUTE HAPPINESS ).সর্ত সাপেক্ষ সুখ থেকে নিসর্ত সুখ এ উত্তরণ
আমাদের মনের সব গ্লানি মুছে দিয়ে আনে প্রশান্তি.

শুধু পটে লিখা

কারোর কাছে তুমি রূপসী , কারোর কাছে বা তুমি মোহময়ী
আমার তুমি দেবী ওগো চিন্ময়ী
আজ তোমায় আবার দেখলাম
কি সুন্দর পোশাক পরেছিলে তুমি
সুভ্র নীল নীলিমায় নীল
মাধুরীতে ভরেছ তুমি আমার নিখিল !