Monday, March 27, 2017

ঘাতক সম্মেলন- রহস্য উপন্যাস (শেষ অংশ)

                 -৬-

          মৃত্যু ছোঁয়াচে রোগ

পরদিন সকালে সন্দীপ ব্রেকফাস্টের পর একটু বের হলো।পাড়ার তেমাথার মোড়ের হার্ডওয়্যার দোকানের সামনে সাইকেলটা রেখে ভিতরে ঢুকলো।সন্দীপের বন্ধু রঞ্জিত এখন দোকানে বসে।তার সঙ্গেই পড়তো রঞ্জিত।পড়াশোনায় ভালো ছিল না।যদিও গোয়েন্দা গল্পের পোকা।ক্যারাটে, কুংফু এসব শিখতো।ক্যারাটের শো করতো।H.S. দেবার পর পৈতৃক ব্যাবসায় নেমেছে।ঘটে বুদ্ধি আছে কিন্ত পড়াশোনায় প্রবল অনীহা।

সন্দীপকে দেখেই রঞ্জিত হেসে উঠে দাঁড়ালো।

-কি ইঞ্জিনিয়ার বাবু কি মনে করে?

-ভালো আছিস?

-হ্যা।

রঞ্জিতের হাসি আর থামে না।হেসেই চলেছে মুখ টিপে।

-কি রে আমাকে কি জোকার মনে হচ্ছে?

-আররে নানা,একটা কথা মনে পরে গেল।তুই গোবর্ধন মন্ডল নামে কাউকে চিনিস?তোদের উদয়পুরের ছেলে।

-হ্যা।গবা আমার ক্লাসমেট তো।

-সেদিন আমাদের দোকানে এসেছিল।বললো  তোমার দোকানে মাঝে মাঝে সন্দীপকে দেখি।কিন্ত ও তো ইলেকট্রনিক্স নিয়ে পড়েছে।শিক্ষানবিশী করতে হলে ওর তো রেডিও টিভির দোকানে বসা উচিত!

সন্দীপ হাসলো।

-হ্যা ভালো বলেছে।ও ছিল উদয়পুর স্কুলের বরাবরের সেকেন্ড বয়।আমাকে কোনোদিন হারাতে পারেনি।ওর বিদ্বেষ এখন ও কমেনি দেখছি!

-তারপর বল।

সন্দীপ কলেজের কথা বললো আর তার সঙ্গে এসবির বাড়ির ঘাতক সম্মেলন ও তার পরবর্তী মলিনাদেবীর মৃত্যু সবকিছু বললো।

-তোদের এই এসবি প্রফেসর জ্ঞানী লোক।কিন্তু কিছু পাগলামি আছে ওর।কি দরকার বল এভাবে খুঁচিয়ে ঘা করার।দিব্যি আছিস বাপু।বিনি পয়সায় টিউশন পড়াচ্ছিস, ছেলেপিলের উপকার করছিস।কিন্তু লোকজনকে ডেকে এইসব আঁতলামি করার কি দরকার?

-ব্যাপারটা এখন আর আঁতলামির পর্যায়ে নেই।সিরিয়াস টার্ন নিয়েছে।একটা মৃত্যু ইতিমধ্যেই ঘটেছে।

-হুঁম…

-আচ্ছা রঞ্জিত, তুই তো এখানে টানা থাকিস,তুই আমার থেকে এই লোকগুলোর ব্যাপারে অনেক বেশি জানিস।তুই একটু আমাকে বলতে পারবি বাকি পাঁচজন কি কোনো অপরাধমূলক কাজ করেছে অতীতে?করে থাকলে কোন মাপের?খুব বড় কিছু?অতীত অপরাধের ধরন জানতে পারলে বোঝা যাবে এরা এখন কতটা ডেসপারেট হইতে পারে নিজেদের কুকীর্তি ঢাকতে।

এমন সময় একটা বলিষ্ঠ চেহারার লোক হন্তদন্ত করে সাইকেল নিয়ে দোকানের সামনে দাঁড়ালো।সাইকেল থেকে না নেমেই বললো

-এই রঞ্জিত দোকান বন্ধ কর।

-কেন কি হয়েছে গদাই দা?

-ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি রিন্টু মন্ডল আর ওঁর বউ মারা গেছে কাল রাতে।আজ বাজার বন্ধ থাকবে।

-সেকি?কি হয়েছিল?

-কাল রাতে সুইসাইড করেছে।

মুহূর্তের জন্য যেন সবকিছু থেমে গেল।বাকরুদ্ধ হয়ে গেল ওরা দুজনে।

দোকানের সাটার নামিয়ে তালা দিল সন্দীপ আর রঞ্জিত মিলে।

-চল রঞ্জিত এসবির বাড়ি যাবো একটু।

-আমি যাবো তোর সঙ্গে?

-আরে চলনা।

এসবির বাড়ির সামনে আসামাত্র দেখা গেল যথারীতি পুলিশের জীপ দাঁড়িয়ে আছে।ভিতর থেকে উত্তপ্ত বাক্যালাপ ভেসে আসছে।

এসবি সোফায় বসে আছেন,আর তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে সুখেন সাহা,অজিত মুখার্জী আর ওসি অবিনাশ রায়।

“আপনার জন্য একটা সংসার ছারখার হয়ে গেল”।সুখেন সাহা মারমুখী মেজাজে বললো।

“জেনেশুনে একটা মানুষকে সুইসাইড এর দিকে ঠেলে দিলেন।আপনি একটা ক্রিমিনাল।”অজিত মুখার্জী ও সমানতালে ফুঁসছে।

“এখনই নিজেকে পুলিশের হাতে  তুলে দিন।দারোগবাবু , এর against এ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করুন।

ওসি অবিনাশ রায় শান্ত করার চেষ্টা করলেন দুজনকে।

“আপনারা ওঁর উপর এভাবে চড়াও হবেননা।ধর্য্য ধরুন ।পাবলিক prosecutor মিঃ দাঁ এলে ওনার সঙ্গে ডিসকাস করে আমি স্টেপ নেব।”

সুখেন সাহা ও অজিত মুখার্জী ফুঁসতে থাকে সমানে।ভিতরের ঘরে অধ্যাপকজায়া শুয়ে আছেন।তাঁর শরীর ভালো নেই।low pressure এর রুগী।তার উপর এইসব ঝামেলা।

এসবি মৃদুস্বরে বললেন “অবিনাশবাবু আপনাকে একটা কথা বলা দরকার।আজ সকাল নটা নাগাদ একটা থ্রেট কল এসেছে ল্যান্ডফোনে।মিসেস ফোনটি ধরে ছিল।কেউ একজন বলেছে”আপনার স্বামীকে প্রস্তুত থাকতে বলুন “ব্ল্যাকমেইলিং এর শাস্তির জন্য।ঘুঘু দেখেছে ফাঁদ দেখেনি এখনও।”আমার মিসেস ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে।ও লো পেসারের রুগি।এখন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে।”

-বৌদি গলাটা চিনতে পারেননি?

-না।ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত গলায় কেউ কথা বলেছে।চিনতে পারেনি গলাটা।

অবিনাশবাবু স্থির দৃষ্টিতে অজিত মুখার্জীর দিকে তাকিয়ে  বললেন “কি আপনারা কেউ করেছেন ফোনটা?”

অজিত মুখার্জী দাঁত চিপে বললো”আমি অন্তত পিছন থেকে ছুরি মারি না।যা করি সামনা সামনি করি।”

তখনই পাবলিক প্রসিকিউটর মিঃ দাঁ ঢুকলেন ঘরে।

অবিনাশবাবু ওনাকে বসতে বললেন।

“মিঃ দাঁ আমি আপনাকে মলিনা মন্ডলের কেসটার কথা বলেছিলাম না?আজ সকালে রিন্টু মন্ডল আর ওর ওয়াইফ ও সুইসাইড করেছে।যেহেতু রিন্টু ও সেদিন সুদর্শনবাবুর বাড়িতে ছিল তাই এটাও একই সূত্রে গাঁথা।এক্ষেত্রে কি আমার সুদর্শনবাবুর against এ action নেওয়া উচিত?”

মিঃ দাঁ একটু গম্ভীরভাবে ভাবলেন।তারপর বললেন

“না।এক্ষেত্রে abetting a suicide এর কেস দেওয়া যায় না।”

এটা শুনেই সুখেন সাহা আর অজিত মুখার্জী রেরে করে উঠে দাঁড়ালো।

“কি বলছেন আপনি?একজন শিশুও বুঝবে দুটো ঘটনাতেই ওনার ভূমিকা আছে।তা ছাড়া উনি আমাদের ও ডেকে মানসিক চাপ তৈরী করেছেন।উনি একজন প্রভাবশালী লোক বলে আপনারা কোনো স্টেপ নিচ্ছেন না।” সুখেন সাহা গর্জে উঠলো।

“আমি আপনার থেকে আইনটা ভালো বুঝি।এটা আমার পেশা।কাউকে তার কৃতকর্মের কথা মনে করিয়ে দেওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া নয়।আপনি যদি এব্যাপারে একমত না হন তাহলে আপনি নিজেই ওনার বিরুদ্ধে FIR করুন না।পুলিশ তদন্ত করবে।আমার মতে ডঃ ভট্টাচার্য নিরপরাধ।”

রাগে গজগজ করতে করতে ওরা দুজন বেরিয়ে গেল।মিঃ দাঁ এবার এসবিকে বললেন”এবার আপনি বলুনতো রিন্টু কি এমন করেছিল যে অনুশোচনায় এমন করলো।”

এসবি ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন”রিন্টু আমার কলেজেই পাস কোর্সে পড়তো।অভাবের তাড়নায় graduation কমপ্লিট করতে পারেনি।তার আগেই ওর এক মামার কাছে চলে যায় দীঘায়।মামা অবশ্য সম্বন্ধেই।মোটে বছর ছয়েকের বড় হবে।তা সেই মামার এক হোটেল ছিল দীঘায়।রিন্টু সেখানে গিয়ে ওঠে মামা ও মামীর সংসারে।হোটেলের বাজারহাট, ব্যবস্থাপনা এসব দেখাশোনা করে।মামা ছিল শারীরিক ভাবে রুগ্ন,বিভিন্ন অসুখে ভুগতো।রিন্টু আসায় সুবিধাই হলো হোটেল দেখাশোনায়।রিন্টুর মামীমা মোটামুটি রিন্টুর সমবয়স্ক।রুগ্ন স্বামীর থেকে নবাগত ভাগ্নেটিকে তার বেশ মনে ধরে।দুজনে সিনেমা দেখা,সময় কাটানো চলতে থাকে পুরোদমে।ঘনিষ্টতা ক্রমেই প্রেমের রূপ নেয়।এইরূপে বিষবৃক্ষ মহীরুহে পরিণত হোলো দু এক বছরের মধ্যে।রিন্টুর মামার শরীর ক্রমশঃ রুগ্ন থেকে রুগ্নতর হতে থাকে।হটাৎ একদিন মামা মারা যায়।কোনো গুরুতর  অসুখ হয়নি।পেটখারাপ,বমি থেকে মৃত্যু।যেহেতু লোকটা প্রায়ই রোগে ভুগত তাই কেউ সন্দেহ করেনি।কিছুদিনের মধ্যেই রিন্টু বিধবা মামীকে বিয়ে করলো।এতদিন যে মৃদু কানাঘুষো চলছিল সেটা কলরবে পরিণত হলো।বাড়ির কেউ ওদের সম্পর্ককে স্বীকার করলো না।ওরা দীঘায় হোটেল বিক্রি করে দেবীপুরে এসে সংসার পাতলো।আমি এইসব বৃত্তান্ত শুনেছি কালিদাস মন্ডল নামে একটি লোকের কাছে।লোকটা কিছুদিন দীঘার ওই হোটেলে রাঁধুনি ছিল।হোটেল বন্ধ হওয়ার পর এখানে ফিরে এসে আমাদের কলেজে অস্থায়ীভাবে পিওন এর কাজ করতো।ঘটনাটা শুনে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মালো যে রিন্টু আর তার মামীমা মিলে পথের কাঁটাটি নির্মূল করেছে।”

              -৭-

             মাস্টারমশাই

পাঁচমাথার মোড়ে চায়ের দোকানে বসে আছে সন্দীপ আর রঞ্জিত।পড়াশোনায় রঞ্জিত দুর্বল হতে পারে কিন্ত সাধারণ বুদ্ধি ওর প্রখর।

“আচ্ছা রঞ্জিত, তোর কি মনে হয় ?এইযে চারজন এখনও বেঁচে আছে তাদের মধ্যে কে এই থ্রেট কলটা করতে পারে?”

“আমার সন্দেহ হয় অবিনাশবাবুকে।জানি ও নিজে পুলিশ বলে তোরা কেউ ওর দিকে দৃষ্টি দিচ্ছিস না।কিন্তু ওকে ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

আচ্ছা তুই কি জানিস অবিনাশ রায় এর বউ গায়ে আগুন লাগিয়ে মারা যায়।”

সন্দীপ চমকে উঠলো, তাই নাকি?

সন্দীপের নিজের উপরই রাগ হলো।সে অবিনাশবাবুকে কখনও হিসাবের মধ্যেই রাখেনি।কিন্তু সেটা তো ঠিক নয়।সত্যসন্ধানের প্রথম আপ্তবাক্য হলো, কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা যাবে না।

“আচ্ছা সুখেন সাহার ব্যাপারে তোর কি মত?”

“ও একটা ধুরন্ধর ব্যবসায়ী।নিজের ধান্দায় কিছুটা নির্মম ও বটে।শহরের সব রাজনীতির লোক আর গুন্ডা শ্রেণীর লোক ওর হাতের মুঠোয়।ব্যবসায়িক স্বার্থে খুন জখম করে থাকতেই পারে।”

“জানিস রঞ্জিত,বাকি দুজনের ব্যাপারে কিন্তু আমি কিছুটা বিভ্রান্ত।”

“অজিত মুখার্জী আর অরূপ সেনগুপ্ত?”

“হ্যাঁ”

“কেন বলতো?”

“এদের দুজনকে কোনো অপরাধের ধারে কাছেও দেখিনি কোনোদিন।

আজিতকাকু বরাবর পরোপকারী লোক।আমি ছোট থেকে চিনি।বাচ্চাদের  খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং বিভিন্ন রকম সামাজিক কাজকর্ম,খেলাধুলার আয়োজনে সারাবছর ব্যস্ত থাকে।

অন্যদিকে অরূপ সেনগুপ্ত ও একজন নিরীহ প্রকৃতির ভদ্রলোক।জীবনহানি তো দূরের কথা কারো কেশাগ্র স্পর্শ করার মতোও সামর্থ নেই।”

রঞ্জিত বললো”এই দুজনের কিন্তু দুর্নাম হলে কিছু হারাবার নেই।কারণ এদের না আছে কোনো উচ্চ পদ না আছে কোনো সামাজিক প্রতিষ্ঠা।পুরোনো অপরাধ প্রকাশ পেলে এদের হারাবার কিছু নেই।”

“তাহলে অজিত কাকু এত রেগে গেল কেন সেদিন?”

‘হু,সেটা ভাবতে হবে।তবে পুরনো অপরাধ প্রকাশ পেয়ে যাবার ভয় যদি কারো থাকে তবে সেটা ওসি অবিনাশ রায় আর সুখেন সাহার মধ্যে কেউ।”

“রঞ্জিত,তুই কিন্ত ভুল পথে যাচ্ছিস।আরও তথ্য দরকার সবার সম্মন্ধে।গোয়েন্দা গল্পে দেখিস না যাকে সবথেকে কম সন্দেহ করা হয় সেই দেখা যায় খুনি।”

“ওরে সন্দীপ এটা গোয়েন্দা গল্পের প্লট নয়, ঘোর বাস্তব।গল্পে পাঠক আর লেখকের দাবাখেলা চলতে থাকে।।সারা গল্পজুড়ে হাতি ঘোড়া নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলতে থাকে।গল্পের শেষে লেখক নিরীহ বোড়ে দিয়ে পাঠককে কিস্তিমাত করে।কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাশিতভাবে যাকে অপরাধী মনে হয় শেষ পর্যন্ত সেই খুনি বলে প্রমাণিত হয়।

লালমোহন বাবুর কথাটা ভুলে যাস না!ট্রুথ ইজ স্ট্রংগার দ্যান ফিকশন!”

দুজনেই হেসে উঠলো।

এমন সময়ে ওদের সামনে দিয়ে একজন  লোক হেঁটে পেরিয়ে গেলো।লোকটি ওদের দুজনেরই বিশেষ পরিচিত।শুধু তাই নয় এসবির বাড়ির ঘাতক সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী একজন সভ্য ও বটেন।লোকটিকে দেখামাত্র চায়ের দোকানের কয়েকজন ‘মাস্টারমশাই”, ‘মাস্টারমশাই’ আওয়াজ দিতে থাকলো।লোকটি ভ্রুক্ষেপ না করে কিছুদূর গেল।ছেলের দল টিটকিরির মাত্রা আরও বাড়ালো।হটাৎ লোকটি হিংস্রভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তেড়ে এলো ওদেরদিকে।ছেলেগুলো চায়ের কাপ ফেলে যে যেদিকে পারলো পালালো।

লোকটি বিশ্রী গালাগালি দিতেদিতে চলে গেল।ততক্ষনে ছেলের দল ফিরে এসে তাদের অর্ধভুক্ত চা নিয়ে বসেছে আর হাসাহাসি করছে।

সন্দীপ রঞ্জিতকে বললো”এই মাস্টারমশাই এর বৃত্তান্ত টি কি?আমি তো কিছু শুনিনি এই ব্যাপারে?”

রঞ্জিত হেসে বলে”দিনরাত বইয়ে মুখে বসে থাকলে তোর এই অবস্থাই হবে।এই ঘটনা তো দেবীপুরের বাচ্চারাও জানে।’

তারপর ঘটনাটা পুরো বললো সন্দীপকে।

“এটা আগে বলিসনি কেনো?আপাত নিরীহ এই লোকটিকে  তো আমি সন্দেহই করিনি।কিন্তু এখন তো দেখছি একেও সন্দেহের আওতায় রাখতে হবে।”

          -৮-

         নিয়তি

 

অমিতাদেবীর শরীর ভালো নেই।একে লো প্রেসার এর রুগি উনি।তার উপর সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে উনি খুবই বিচলিত।এখানে দেখাশোনার কেউ নেই বলে এসবি অমিতাদেবীকে বোলপুরে পাঠিয়ে দিয়েছেন ওঁর বাপের বাড়িতে।বাড়িতে  তিনি এখন একা।

সন্দীপ ও এই কদিন বাড়িতেই  আছে।সন্দীপ আর রঞ্জিত মিলে ঠিক করলো ওরা এসবির বাড়ির উপর নজর রাখবে।এই কদিনে কিছু হয়নি মানে যারা অপরাধ করে পার পেয়ে গেছে তারা মানসিক ভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী।রিন্টু মন্ডল বা মলিনা দেবীর মতো দুর্বলচিত্ত নয়।সেই অপরাধী বা অপরাধীরা জানে এসবি তাদের গোপন কথা জানেন।সেটা প্রকাশ পেলে তাদের সমূহ ক্ষতি।তাই তাদের প্রধান কাজ হবে এসবিকে রক্ষা করা।

এসবির বাড়ির পাশে পুরসভার পূর্ত বিভাগের অফিস।বাড়িটার দক্ষিণ আর পশ্চিম দিকে জুড়ে এই অফিস বিল্ডিং।পূর্বদিকে রাস্তা আর তার ওপারে ফাঁকা প্লট।কেবলমাত্র উত্তরদিকে বাড়ির লাগোয়া আর একটি বাড়ি।ওটা সন্তুদের বাড়ি।সন্তু সন্দীপ বা রঞ্জিতের থেকে কয়েক বছরের ছোট।কিন্ত ওদের  সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশে।সন্তুর বাড়ির সবাই সিমলা বেড়াতে গেছে।বাড়িতে একা সন্তু আছে বাড়ি পাহারা দেবার জন্য।রঞ্জিত আর সন্দীপ মিলে ঠিক করলো সন্তুদের বাড়িতে থেকে তিনজনে মিলে নজর রাখবে এসবির বাড়ির উপর।কারণ যে ‘মগ্নমৈনাক’ তার কুকীর্তি ফাঁসের আশংকা করছে সে যেকোন মুহূর্তে বিপদজ্জনক কোনো পদক্ষেপ নিতেই পারে।সন্দীপের ষষ্ঠইন্দ্রিয় যেন বলছিল কিছু একটা হতে চলেছে খুব শিগগিরই।ওরা তিনজন পালাকরে সন্তু দের ঘরে থাকে এবং এসবির বাড়ির দিকে নজর রাখে।এ ব্যাপারে সন্দীপ এসবি কেও কিছু বলেনি।

সেদিন সন্ধ্যায় রঞ্জিত,সন্দীপ আর সন্তু আড্ডা দিচ্ছিল সন্তুদের ঘরে।এসবির বাড়ির দিকের জানলায় পর্দা টানা।আড্ডা মারতে মারতে কখন সাড়ে নটা বেজে গেছে কারোর খেয়াল নেই।হটাৎ সন্দীপ খেয়াল করলো এসবির বাড়ির গেটে হাফ শার্ট আর ট্রাউজার পরা একটা লোক একহাতে সাইকেল ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

ভদ্রলোক তাদের পরিচিত।আরও স্পষ্ট ভাবে বললে বলতে হয় সেদিনের সেই চায়ের দোকানের ‘মাস্টারমশাই’।

লোকটিকে এই সময়ে দেখা মাত্র সন্দীপ সন্তু আর রঞ্জিত কে নিয়ে বাড়ির বাইরের দিকের বারান্দা সংলগ্ন ড্রইংরুমে গিয়ে দাঁড়ালো।রুমের আলো জ্বালেনি।পর্দার ফাঁক থেকে দেখতে থাকলো  কি হয়।

কলিং বেল এর আওয়াজ শুনে এসবি বেড়িয়ে এলেন।

-আপনি এই অসময়ে?কি ব্যাপার?

স্বভাবে অতিথিপরায়ণ এসবির ভ্রু কুঁচকে গেছে কোনো এক অজানা বিস্ময়ে।

-এলাম দরকারে।আপনার সঙ্গে কিছু কথা আছে।

-এখন?ঠিক আছে আসুন।

দুজনে ভিতরে গেল।

-বলুন এবারে।

-আপনার সঙ্গে কিছু বোঝাপড়া আছে।

-মানে?

-আপনি এভাবে মানুষকে নির্যাতন করেন কেন?

-কি বলতে চাইছেন?

-একজন মানুষের জীবনে কত রকম ঝড় ঝাপটা আসে জানেন?তার মধ্যে তাকে বেঁচে থাকতে হয় যুদ্ধ করে।ছোটখাটো ভুল ত্রুটি মানুষের হয়েই থাকে।সেগুলোকে বড় করে দেখিয়ে তাদের ইমোশনালি ব্ল্যাকমেল করছেন কেন আপনি?

-আপনি সব গুলিয়ে ফেলছেন।কাউকে সচেতনভাবে মৃত্যুর দিকের ঠেলে দেওয়া ছোটখাটো ভুল নয়।এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এ অপরাধ সর্বোচ্চ মানের শাস্তি দাবি করে।

-আপনি নিজেকে একাধারে জজ,জুরি, executioner  ভেবেছেন?

-আমি আপনার সঙ্গে তর্ক করবো না।এখন আমার খাবার সময়।আপনি পরে আসুন।

-না,আজ একটা বোঝাপড়া করেই যাবো।আপনি মানুষের দুর্বলতার কথা জেনে দিনের পর দিন মানসিকভাবে নির্যাতন করবেন আর তা মুখ বুজে মেনে নিতে হবে?

-আপনার মনে অপরাধবোধ আছে বলেই আপনার এ রকম মনে হচ্ছে!

-কিসের অপরাধবোধ,কি অপরাধ করেছি আমি?খুন করেছি না ডাকাতি করেছি?

এসবি মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন।তারপর বললেন “ মনে পড়ছে না আপনার?একটা নিরীহ মেয়ের জীবন নষ্ট করেছেন,তার বাবা-মাকে সন্তানহারা করেছেন।মেয়েটি লজ্জার হাত থেকে বাঁচার জন্য শেষে বাধ্য হয়েছে  আত্মহত্যা করতে।”

“তবে রে শুয়োরের বাচ্চা।”

এই বলে লোকটি ঝাঁপিয়ে পরে এসবির উপর।দুহাতে চেপে ধরে তার গলা।এসবি প্রানপনে চেষ্টা করেন নিজেকে ছাড়াবার কিন্তু পারেননা।অস্ফুট এক কাতর স্বর বেড়িয়ে আসতে থাকে মুখ দিয়ে।

ঘটনার  আকস্মিকতায় নিশ্চল হয়ে যায় সন্দীপ,সন্তু আর রঞ্জিত।হটাৎ রঞ্জিত এক ঝটকায় সন্দীপের হাত ধরে টেনে ঘর থেকে বের করে।ওদের সঙ্গে সন্তুও বেরোল বাইরে।দ্রুত ওরা এসবির দরজায় এসে ধাক্কা মারে।দরজাটা ভেজানো ছিল।ওদের আসার শব্দ শুনে লোকটা তখন এসবিকে ছেড়ে দিয়েছে।এসবি নিজের গলা ধরে বসে পড়লেন।ঘরে ঢুকেই সন্তু আর রঞ্জিত লোকটিকে চেপে ধরলো।হতবম্ভ হয়ে লোকটি বেশি বাধা দিলো না।সন্দীপ গিয়ে এসবির পাশে দাঁড়ালো।

এসবি খক খক আওয়াজ করতে করতে বললেন “একটু জল”

সন্দীপ ভিতরের ঘর থেকে তাড়াতাড়ি একটা জলের বোতল নিয়ে এলো।

এসবি সেটা খেয়ে ধরা গলায় বললেন”তোমরা না এলে এ আমাকে মেরেই ফেলতো”

অন্যদিকে লোকটি কোনো কথা বললো না।দুহাতে মাথা ভর দিয়ে বসে রইলো।

সন্দীপ জানে এখন কি করতে হবে।বসার ঘরের এককোনে টেলিফোন ডিরেক্টরী থেকে দেবীপুর থানার নম্বর খুঁজে বের করলো।

সন্দীপ যখন টেলিফোনে থানায় ঘটনাটা জানাচ্ছে তখন ঘরের অন্যদিকে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে আক্রমণকারী লোকটি।শূন্য,অসহায় তার দৃষ্টি।অতীত অপরাধের কলঙ্কের বোঝায় নতশির এই ‘মগ্নমৈনাক’ আর কেউ নয়, এসবির প্রতিবেশী অরূপ সেনগুপ্ত স্বয়ং।

               -৯-

             উপসংহার

         ------- ----------

আবার এসবির ড্রইংরুমে একত্রিত হয়েছে ওরা সবাই।অমিতাদেবী ফিরে এসেছেন।ওসি অবিনাশবাবু ,সুখেন সাহা,অজিত মুখার্জী আছেন।আর আছে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স সন্দীপ,রঞ্জিত আর সন্তু।শেষ দৃশ্যে ওরাই তো হিরো ছিল।

এসবি বলতে শুরু করলেন।

“অরূপ সেনগুপ্ত একজন নেহাতই সাধারণ লোক ছিলেন।আমাদের একটা চালু ধারনা আছে যে সাধারণ গেরস্থ, সংসারী লোক বুঝি কোনো অপরাধ করে না।যত অপরাধ করে গুন্ডা,বাদমাইস, রাজনৈতিক নেতা,পুলিশ আর ধুরন্ধর ব্যবসায়ীরা।”

এটুকু বলে তিনি অবিনাশবাবু আর সুখেন সাহার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।ওরাও হেসে ফেললো।

তারপর আবার শুরু করলেন।

তথাকথিত সাধারণ মানুষদের মধ্যে অনেকেই দৈনন্দিন জীবনে অনেক অনৈতিক কাজ করে।মলিনার কথা তো বলেছি তোমাদের।সে পারিবারিক সম্মানরক্ষার অজুহাতে নিজের গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছিল।

অরূপ সেনগুপ্ত ও সেরকম একজন দোষে গুনে ভরা লোক।গরিব বাড়ির ছেলে।গ্রামের ছেলে কলেজ পাশ করে গ্রামীন ব্যাঙ্ক এ একটা চাকরি জুটিয়েছিল।বাবা-মা খুব অল্পবয়সে বিয়ে দেওয়ায় সংসারের বোঝা এসে পড়েছিল ঘাড়ে।বাড়তি রোজগারের আশায় টিউশন শুরু করলো।অংক আর সায়েন্স এর সাবজেক্ট পড়াতো।ধীরে ধীরে পসার বাড়লো।এই সময়েই রেলবাজারের যোগেন দত্তর বাড়িতে ওর একমাত্র মেয়েকে পড়াতে যেতো।ধনী ব্যবসায়ী যোগেন দত্ত তার মেয়ের পড়াশোনার ভার সপে দিয়েছিল অরূপ বাবুর হাতে।বড়োলোকের একমাত্র সুন্দরী আদুরে মেয়ে রাকা।অরূপ সেনগুপ্তর জীবনে এই ছাত্রীটি বিকেলে ভোরের ফুলের মতো দেখা দিল।

বলাই বাহুল্য অরূপবাবু ও চরিত্রের দিক থেকে ধোয়া তুলসীপাতা ছিলেননা।কম বয়সে বৈবাহিক দায়িত্বের বোঝা চাপায় যৌবনের অনেক ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছিলো।সেই ইচ্ছা পূর্ণ করার এমন অপূর্ব সুযোগ ছেড়ে দেওয়ার পাত্র অরূপবাবু নয়।ছাত্রীর সঙ্গে অরূপবাবুর মেলামেশা বেড়ে গেল।পড়ানো ছাড়াও একসঙ্গে ঘোরাঘুরি,রেস্তুরাঁয় খাওয়া এমনকি সিনেমা দেখা অবধি সবই চলতে থাকলো।শহরময় ওদের মেলামেশা নিয়ে নানা কথা চলতো।কিছু কথা যোগেনবাবুর ও কানে এসেছিল।কিন্তু উনি পাত্তা দেননি।এভাবে চলতে চলতে মেয়েটি একদিন বুঝতে পারে সে অন্তঃসত্বা।বাড়িতে বাবামাকে বলে সেটা।বাবা মা চাপ দিতে থাকে কে তার এই অবস্থার জন্য দায়ী সেটা জানার জন্য।অন্যদিকে অরূপবাবু  তার উপরে চাপ দিতে থাকলো যাতে সে কিছুতেই অরূপবাবুর নাম বাবামার কাছে না করে।দোটানায় হয়ে নিরুপায় হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

সবাই চুপ করে শুনছিল।এসবি থামতেই সুখেন সাহা হাতজোড় করে বললো” আচ্ছা আমি তো কখনও কারোর মৃত্যুর কারন হইনি।আমাকে কেন ডেকেছিলেন সেদিন?ব্যবসার প্রয়োজনে ঘুষ দিয়েছি কখনো কখনো ,আইনও ভেঙ্গেছি।কিন্তু কখনও খুনখারাপি করিনি।

এসবি বললেন “কসাইপাড়ার একটা ছেলে আপনার কলকাতার ফ্ল্যাটে কাজ করতো না?ও কিভাবে মারা গেল?”

“ও আপনি জাহাঙ্গীর এর কথা বলছেন?ওকে তো টালিগঞ্জ এর পাড়ার ছেলেরা মেরেছিল।কিন্ত বিশ্বাস করুন আমার কোনো ভূমিকা ছিল না তাতে।জাহাঙ্গীর আমার ফ্লাট থেকে গয়না চুরি করে পালিয়েছিল।আমি লোকাল ক্লাবের ছেলেদের কিছু টাকা দিয়ে বলেছিলাম ওর খোঁজ পেলে যেন আমাকে বা পুলিশকে জানায়।কিন্তু ওই যে বলে না ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে।ওরা জাহাঙ্গীরকে ট্রেস করেছিল।তারপর কথা কাটাকাটি হলে ওকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।আমি গহনাগুলোও উদ্ধার করতে পারিনি।আমি ওদের গায়ে হাত দিতে বলিনি কখনও।বলেছিলাম পুলিশে হ্যান্ড ওভার করে দিতে।”

“ঠিক আছে আপনার কথা মেনে নিলাম।”এসবি বললেন।

এবার অজিত মুখার্জী বললেন “এবার বলুন আমাকে কি চার্জশীট দেবেন?”

-সতু বাবুর ছেলে তোমাদের উদয়পুরের একটা পুকুরে ডুবে মারা গেছিল তাই তো?

-ওটা একটা এক্সিডেন্ট।

-তোমার তাতে কোনো ভূমিকা ছিল না?

অজিত মুখার্জী চুপ।

একটু ঢোক গিলে বলতে শুরু করলো

“সৌমেন আমার সঙ্গে HS এ পড়তো।একবার উদয়পুরে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এলো।দুপুরে আমি,সৌমেন আর গ্রামের কয়েকটা ছেলে মিলে একটা পুকুরে স্নান করতে গেলাম।ওখানে সাঁতার কাটতে কাটতে আমরা একটা খেলতে শুরু করলাম।পুকুরে একটা কাঠের পাটা ভাসছিল।আমরা গ্রামের ছেলেরা ওটার উপর ভেসে কে কতদূর যেতে পারি তার কম্পেটিশন করছিলাম।সৌমেন চুপ করে ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিল।যেহেতু ও সাঁতার জানে না তাই কিছুতেই ওই খেলায় অংশ নেবে না।আমি এই নিয়ে ওকে ঠাট্টা ইয়ার্কি শুরু করলাম।গ্রামের বাকি ছেলেরাও এতে যোগ দিল।বাধ্য হয়ে ও পাটাটার উপর চড়ে পুকুরের মাঝখান দিয়ে ভেসে চললো।পুকুরের মাঝামাঝি এসে পাটাটা হটাৎ উল্টে গেল।তার সঙ্গে সৌমেনও জলে পরে গেল।আমরা ঘাটের কাছ থেকে দ্রুত সাঁতার কেটে এগিয়ে গেলাম।যখন সৌমেন কে জল থেকে তুললাম তখন শরীরটা নিথর।”

অজিত মুখার্জী চুপ করে রইল।

অবিনাশবাবু এবার এসবির দিকে তাকিয়ে বললেন “আইনের রক্ষককে আপনি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করার আগেই একটা স্বীকারোক্তি করি সবার সামনে।আমার স্ত্রী আরাধনা ছিল খুব মুডি মহিলা।আমার মায়ের সঙ্গে একটা ঠুনকো ব্যাপার নিয়ে মান অভিমান হয় ওর।তার পরিপেক্ষিতে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেয়।এতে কোনো অপরাধ জড়িয়ে নেই এ আমি হলপ করে বলতে পারি।”

এসবি ধীর কণ্ঠে বললেন “আমি জানি অবিনাশবাবু ,আপনার মতো সজ্জন ও সৎ পুলিশ অফিসার আমাদের শহরের অহংকার।”

তারপর সন্দীপদের তিনজনের দিকে তাকিয়ে বললেন “এই তিনজনকে কিন্তু আপনি প্রশাসনের তরফ থেকে সম্বর্ধনা দিন।এরা প্রখর বিশ্লেষণী শক্তির পরিচয় দিয়েছে।অরূপবাবুর মতো নিরীহ লোকেরও যে অপরাধপ্রবণতা থাকতে পারে এটা কিন্তু এরা গেস করেছিল।আমার বাড়ির উপর সজাগ দৃষ্টি রেখেছে।এরা ঠিক সময়ে না এলে আমি বাঁচতাম না।”

অবিনাশবাবু বললেন “ঠিক বলেছেন।আমি এসডিও আর পুরসভার চেয়ারম্যানকে বলে এদের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করবো।ওদের মতো সাহসী ছেলে আমাদের গর্ব।”

সন্দীপের মুখ খুশিতে তৃপ্তিতে ভরে গেল।যাক এতদিন পর গোয়েন্দা গল্প পড়ার কোনো সুফল পেল!এসবির মতো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে,অরূপবাবুর মতো স্বভাব অপরাধীকে ধরিয়ে দিয়েছে।

সন্দীপের দৃষ্টি চলে গেল ঘরের দেওয়ালে রহস্যের রানী আগাথা ক্রিস্টির ছবির দিকে।ছবির নিচে লেখা ফিলিপ গিদেলার সেই অমর উক্তি “মহৎ মানুষের মনের খোরাক- গোয়েন্দা কাহিনী”।