Saturday, March 25, 2017

ঘাতক সম্মেলন - একটি রহস্য উপন্যাস(পর্ব ১)

               -১-

             সূত্রপাত

ড: সুদর্শন ভট্টাচার্য দেবীপুর কলেজে রসায়নের অধ্যাপক।তিনি বিজ্ঞানের সাধক হলেও আরও নানা দিকে তার আগ্রহ আছে।দেবীপুর শহরের গান্ধী ময়দানে যে বাৎসরিক “দেবীপুর বইমেলা” হয়ে থাকে তিনিই তার প্রধান উদ্যোক্তা।শহরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যকলাপে তিনি সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন।পাড়ার ছেলেমেয়েদের কাছে তিনি খুব প্রিয়।শুধুমাত্র বাচ্চা ছেলেদের নিয়ে তিনি পিকনিকে যান।কোনো পরীক্ষামুখী নয়,ছাত্রদের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণী ক্ষমতা গোড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেন।তাই তার টিউশন ক্লাসে হাইস্কুলের ছেলেরা শেখে শুধুই জ্যামিতির এক্সট্রা আর ইলেভেন টুয়েলভের ছেলেরা শেখে শুধুই ফিজিক্স এর অংক।কলেজের ছেলেদের তিনি টিউশন পড়ান না।

এই গল্পে আমরা ড: ভট্টাচার্য কে s.b. (এসবি) বলে সম্বোধন করবো।ছাত্রমহলে তিনি এই নামেই পরিচিত।

এসবির ওপর একটি আগ্রহের বিষয় হল গোয়েন্দা সাহিত্য।দেশী বিদেশী বিভিন্ন লেখকের গোয়েন্দা গল্প পড়া তার নেশা।এসবি সেদিন রবিবার বাজার যাচ্ছেন এমন সময় সন্দীপের সঙ্গে দেখা হলো।সন্দীপ তারই কলিগের ছেলে।ওর বাবা কলেজের ক্লার্ক।সন্দীপ দুর্গাপুরের একটি গভঃ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে এখন একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করছে সল্টলেকে।সন্দীপ তাঁর কাছে একসময় পড়েছে,তাঁকে খুব শ্রদ্ধাও করে।সন্দীপ ও তাঁরই মতো রহস্য গল্পের পোকা।সন্দীপকে দেখে এসবি বললেন

“কেমন আছ?পড়াশোনা কেমন চলছে?”

“ভালোই”

“আগামী রবিবার বাড়ি আসবে নাকি?”

সন্দীপ বললো “ স্যার আমি এখন বেশ কয়েকদিন ছুটিতে আছি।অনসাইট করার জন্য গত আটমাস UK তে ছিলাম তো।বাড়ি আসা হতো না তাই একটু বড় ছুটি নিয়েছি।”

“আগামী রবিবার একটি অনুষ্ঠান আছে আমার বাড়িতে।”কৃষ্টি কালচার”এর প্রোগ্রাম।এ ব্যাপারে কিছু ডিসকাস করার আছে তোমার সঙ্গে।বিকেলে একবার বাড়িতে এসো।অশেষ এর শরীর ভালো আছে তো?”

“বাবা ভালোই আছেন।সন্ধ্যেয় যাবো আপনার কাছে।”

“কৃষ্টি-কালচার”- এটি আর একটি পাগলামি এসবির।এর সঙ্গে কৃষ্টি বা সংস্কৃতির কোনো যোগ নেই!এটি আসলে শহরের আগাথা ক্রিস্টি ফ্যানদের একটি আড্ডা।এবং সভাপণ্ডিতের ভূমিকায় শ্রীসুদর্শন ভট্টাচার্য!ক্রিস্টির বিভিন্ন উপন্যাস,তার বিভিন্ন চরিত্র,পোয়ারো আর মিস মারপল  নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।

christie- culture!

No comments:

Post a Comment