Sunday, March 26, 2017

ঘাতক সম্মেলন- রহস্য উপন্যাস(পর্ব ৩,৪,৫)

-৩-

               নট-নটী

প্রথমজন , এসবি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন ,ব্যাবসায়ী সুখেন সাহা।আমার পাড়াতেই থাকে।তুমি নিশ্চয় চেনো।”রাখী” সিনেমার মালিক।তা ছাড়াও কনস্ট্রাকশন এর ব্যবসা আছে।আমার সন্দেহ সে একটি অতীত অপরাধে যুক্ত।

“সুখেন সাহা কোন হত্যায় যুক্ত ছিল স্যার?”

“সেটা আমি বলবো না তোমাকে।এই ছজনের কারো ব্যাপারেই ওই তথ্যটি দেব না।তুমি বুদ্ধিমান ছেলে, এখানে অনেকদিন আছো , বুদ্ধি খাটিয়ে বের করো।এতে রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস পড়েছো।কিছুটা তো শিখেছো সত্যসন্ধানের পক্রিয়া!”

“বেশ তাই হোক স্যার!” সন্দীপ হেসে বললো।

“দ্বিতীয়জন, অবিনাশ রায়।স্থানীয় দেবীপুর থানার ওসি।এর ব্যাপারে অবশ্য তুমি কমই জানো কারণ ভদ্রলোক মাত্র দু-বছর হল এখানে এসেছেন।ইনি ও একজন সন্দেহভাজন “মগ্ন মৈনাক”।”

“তৃতীয়জন এর নাম অজিত মুখার্জী।ভালো ফুটবলার, athlete.

এখন অবশ্য বয়স হয়েছে,খেলা ছেড়ে একটা গ্রোসারী দোকান খুলেছে।কলেজে আমার ছাত্র ছিল পাস কোর্সে।তোমাদের দেবীপুরের লোক।চেনো তো?”

“হ্যা,চিনি তো।আমি ক্লাস টেন অবধি উদয়পুরে পড়েছি।আজিতকাকুর খেলায় খুব আগ্রহ।আমাদের ছোটদের নিয়ে দৌড়,লং জাম্প এসব প্রাকটিস করাতো।আমার বিশ্বাস হয়না এরকম কোনো স্পোর্টসম্যান কাউকে হত্যা করতে পারে।”

“তোমার বিশ্বাস নাও হতে পারে ভাই।কিন্তু জীবনে মানুষ ক্ষনিকের আবেগ উত্তেজনায় এমনকিছু করে যার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। যাইহোক, চতুর্থজন হলো আমার প্রতিবেশী অরূপ সেনগুপ্ত।তুমি বোধহয় দু-একবার ওকে দেখেছ।আমার এখানে প্রায়ই আসেন,গল্প-গুজব হয়।স্থানীয় গ্রামীন ব্যাঙ্কে ক্লার্ক।

পঞ্চমজন রিন্টু মন্ডল।তোমাদের পাড়ায় থাকে।বড়বাজারে রেস্তোরাঁ আছে একটা।”ভালোমন্দ”।আর বাড়িতে ওর ওয়াইফ এর বিউটি পার্লার ।

তালিকায় শেষজন নেহাতই নিরীহ একজন বিধবা ভদ্রমহিলা।মলিনা মন্ডল।ওর মেয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে পড়তো।সেই সূত্রে আমার বাড়িতে ওঁর যাতায়াত।তোমার কাকিমার সঙ্গে বান্ধবীর মতো সম্পর্ক।আগে তোমাদের উদয়পুরে থাকতো।এখন দেবীপুরে বাড়ি করে আছে।ওঁর হাসব্যান্ড এর একটা গ্রোসারি শপ আছে।”

চরিত্রায়নে বৈচিত্র্য আছে,সন্দীপ ভাবলো,ঐক্য ও আছে- অতীত অপরাধ।

                 -৪-

               সম্মেলন

“আমাকে কেন ডেকেছেন দাদা আপনাদের মধ্যে?আপনারা জ্ঞানী মানুষ ,বইপত্র পড়েন।আমি কি এসব কিছু বুঝি?চাষীর ঘরের মেয়ে ,সারাজীবন ভাতরান্না আর মুড়িভাজা

ছাড়া কিছুই করিনি।সাহিত্যসভায় আমার কীই বা করার আছে?”

মলিনা দেবী বলছিলেন।বসার ঘরের দেওয়ালে রহস্যের রানী আগাথা ক্রিস্টির একটি ফ্রেমে বাঁধানো ফটো রয়েছে।সোফায় বসে আছেন ওরা চারজন।

এসবি , সন্দীপ পাশাপাশি সেন্টার টেবিলের দৈর্ঘ বরাবর বড়ো সোফাটিতে।বাঁ দিকে সিঙ্গেল সোফায় অরূপবাবু , ডানদিকে আর একটি সিঙ্গল সোফায় মলিনাদেবী।

মলিনাদেবী একটু বোর হয়ে বললেন”আমার এখানে কোনো কাজ নেই, যাই দিদিকে একটু হেল্প করি”।

এসবি সন্দীপ কে বললেন

“সন্দীপ তুমি আর অরূপবাবু বারান্দা থেকে আর একটা সোফাসেট নিয়ে এসো।আরও চারজন আসবে।

থানার বড়বাবু  অবিনাশ রায় একজন দীর্ঘদেহী গৌরবর্ণ ব্যাক্তি।মুখটা ভাবলেশহীন।দরজা দিয়ে প্রবেশ করা মাত্র সাদরে আমন্ত্রণ জানালেন এসবি। বসালেন তার আর সন্দীপের মাঝে।

তারপর একেএকে এলেন সুখেন সাহা, রিন্টু দত্ত এবং অজিত মুখার্জী।

সুখেন সাহার ভারী  স্বাস্থ্য, পুরুগোঁফ।পোড়খাওয়া ব্যবসায়ীর চেহারা।

“আজকে জাতে উঠে গেলাম দাদা।”সুখেন সাহা হেসে বললেন “কারবারী লোককে সাহিত্যসভায় ডেকেছেন!”

রিন্টু মন্ডলের বয়স মোটামুটি ৪০-৪২,শ্যামবর্ণ ,রোগা চেহারা।মুখে একটা উপরচালাক ভাব।ঢোকামাত্র বোঝা গেল সে নিজেকে একটু “আউট অফ প্লেস” ভাবছে।

অজিত মুখার্জিকে এককথায় অ্যাথলেটিক বলা যায়।দীর্ঘদেহী,পেটানো চেহারা।শরীরচর্চার স্পষ্ট প্রমান শারীরিক গঠনে পাওয়া যায়।বয়স মোটামুটি রিন্টু মন্ডলের মতোই।আর্লি ফর্টিজ।সন্দীপকে দেখেই বললো “কি ভাইপো কেমন আছো ?”

“ভালো।”সন্দীপ হেসে বললো।

একরাউন্ড চা-জলখাবার পরিবেশন করলেন অমিতাদেবী আর মলিনাদেবী

মিলে।

তারপর শুরু হলো সভার কার্যক্রম।

এসবি বলতে শুরু করলেন”মাননীয় বন্ধুগন আজ আমি আপনাদের ডেকেছি একটি বিশেষ প্রয়োজনে।এটাকে একই সঙ্গে একটি সত্যসন্ধানের প্রক্রিয়া হিসাবেও দেখতে পারেন।আপনাদের যা খুশী।”

“আপনারা জানেন রসায়নের ছাত্র হলেও অপরাধ বিজ্ঞানের প্রতি আমার আজন্ম অনুরাগ।অপরাধ বিজ্ঞানের বই,  নিত্যদিনের সংবাদপত্রের অপরাধ ঘটিত খবরাখবর,চারপাশে সমাজের অপরাধ এবং সর্বোপরি কাল্পনিক গোয়েন্দাসাহিত্য আমাকে ভীষণ আকর্ষণ করে।অপরাধী মনস্তত্ব এবং অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা আমার নেশা।আজকে আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো আমার সেই সত্যসন্ধানের উদ্দেশ্যেই।”

এটুকু বলে শ্বাস নিলেন  এসবি।

“আর একটি উদ্দেশ্য আছে।সেটি হল “to give justice to a person or few persons who suffered in the past”

অতীতে হয়ে যাওয়া কিছু অন্যায় বা অপরাধকে সামনে আনা।”

সবার মুখ থমথমে।সবার দৃষ্টি এসবির দিকে।প্রথমে মুখ খুললেন ওসি অবিনাশ রায়।

“কিন্তু এসব কথা বাড়ির বৈঠকখানায় কিভাবে হতে পারে?এরজন্য তো পুলিশ আছে, আদালত আছে,আইন আছে।আপনি আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেননা কেন?”

“অবিনাশবাবু আমরা যদি বিবেকবোধ জাগ্রত রাখি,আয়নায় নিজের আসল রূপটা দেখি তাহলে আইন,আদালত যাবার দরকার নেই।মনুষ্যত্ববোধ ও নীতিবোধই আমাদের সঠিক পথে চালিত করবে।”

‘বন্ধুগন আমি খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে আমি জানি আপনাদের মধ্যে এমন কেউ একজন আছেন যিনি অতীতে এক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে বলতে হয় কোনো মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।”

সকলেই চুপ।পিন ড্রপ সাইলেন্স।

সুখেন সাহা মুখ খুললেন।

“আপনি আমাদের এজন্য ডেকে পাঠিয়েছেন?বাড়িতে ডেকে অপমান করার একটা অভিনব পন্থা বেছেচেন তো আপনি।সাবাশ আপনাকে।”

রিন্টু মন্ডল বললো “আপনি ঠিক বলেছেন সুখেনদা।স্যার আপনি নিজেকে কি ভাবেন?মানুষকে এভাবে অপমান করছেন কেন?”

অজিত মুখার্জী মেঠো খেলোয়াড়ী মেজাজে বললো “কি ভেবেছেন কি নিজেকে?যাকে তাকে ডেকে অপমান করবেন?এত স্পর্ধা আপনার?সবাই চলুন এখন থেকে।ছোটলোক কোথাকার!”

সশব্দে বেড়িয়ে পড়লো সবাই।বাইরে থেকে উত্তপ্ত বাক্যালাপ ভেসে আসতে থাকলো।একটুপরে তা মিলিয়েও গেল সন্ধের অন্ধকারে।ঘরে শুধু এসবি, মলিনাদেবী,অরূপবাবু,সন্দীপ আর ওসি অবিনাশ রায়।অমিতাদেবী রান্নাঘর থেকে এসে ওদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।কয়েক মুহূর্ত কোনো কথা নেই।তারপর মলিনাদেবী বললেন

“আমি আসি দিদি।দেরি করলে আর রিকশা পাবো না।”

“আবার এসো মলিনা।”অমিতাদেবী বললেন।

স্মিত হাসলেন মলিনা।কোনো কথা বললেন না।লেডিস চপ্পল আর ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন।বোঝা গেল এসবির কথায় খুব একটা প্রীত হননি।

অমিতাদেবী তিরস্কারের সুরে বললেন “তোমার পাগলামি কবে থামবে বলতো?এভাবে লোকজনকে ডেকে এসব কথা বলে?ওই ষণ্ডাছেলেটা যদি গায়ে হাত তাত তুলতো তুমি কি করতে?তোমার কর্তৃত্ব কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এটা ভুলোনা।”

অবিনাশবাবু বললেন “বৌদি ঠিকই বলেছেন।আপনার এসব কথা বলা উচিত নয়।কারো এগেইনস্ট এ কিছু প্রমান থাকলে আমাকে দিননা, আমরা তদন্ত করে ঠিক দোষী সাব্যস্ত করবো।কোনো ক্রিমিনাল যদি জানতে পারে তার অপরাধের কথা আপনি জানেন তাহলে সে সাবধান হয়ে যাবে আর আপনার ক্ষতিও করতে পারে।”

“দারোগবাবু ঠিক বলেছেন।”আমিতাদেবী বললেন”এই বুড়োবয়সে তুমি এসব সামলাতে পারবে?সুখেন সাহার কত লোকাল গুন্ডা পোষা আছে তুমি জানো?রাতবিরেতে যদি আমাদের উপর চড়াও হয়।দারোগবাবুকি চব্বিশ ঘন্টা পাহারা দেবে আমাদের?”

অরূপবাবু মাথা নেড়ে বললেন “সেসব চিন্তা নেই দিদি আমরা পাড়ার লোক থাকতে রিন্টু বা সুখেন সাহার গুন্ডারা কিছু করতে পারবে না।কিন্তু…..অবিনাশবাবু আপনি দেখলেন দাদা কথাটা শেষ করা মাত্র লোকগুলো কেমন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল।নিশ্চয় ওদের মনে কোনো অপরাধবোধ আছে।”

“না না অরূপবাবু।আপনি ভুল করছেন।কাউকে আপনি অপরাধী সন্দেহ করে বাড়িতে ডেকে সেটা বলতে পারেননা।প্রমান থাকলে পুলিশের কাছে যান।কেস করুন।দাদা আপনার মতো একজন responsible citizen এর এরকম কাজ অনুচিত হয়েছে।”

“ঠিক ,ঠিক।”অমিতাদেবী বললেন “এটা blackmail করার সামিল।তুমি ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চেয়ে নিও।এসব না করে দুটো গরিব ছেলেকে পড়ালে তো পারো।”

“আহ!ওরা তো আমাকে বলতেই দিলনা।আমি বলছিলাম ওরা যেন অতীতের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় আর সমাজকল্যাণমূলক কোনো কাজ করে তার প্রায়শ্চিত্ত করে।কিন্তু কথাটা শেষ করতে দিলোনা।”

“তোমার জাগ্রত বিবেক হবার কোনো দরকার নেই।বাস্তব আর সাহিত্যের কল্পলোক কখনো এক হয়না।নিজের পড়াশোনা আর কলেজ নিয়ে থাকো।এভাবে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে যেও না।”

               -৫-

            গর্ভঘাতিনী

           -–--------–----

রাতে বাড়ি ফিরে সন্দীপ খবরের চ্যানেলগুলো দেখছিলো।ছোট থেকেই নিয়মিত খবর ফলো করাটা ওর অভ্যেস।এসবির উপদেশে ইদানিং সে একটা business daily পড়ে আর business newschannel গুলো ফলো করে।এসবি বলেন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করলে সেই বিশ্লেষণ অনেক বৈষম্যমুক্ত হয়।অর্থনীতি লাভক্ষতির কেজো ভঙ্গিতে ভাবতে শেখায়।রাজনীতি আবেগ সর্বস্ব হতে প্ররোচিত করে।

সকালে সন্দীপ উঠলো একটু দেরিতে।প্রাতরাশ সারলো লুচি আর বেগুনভাজা দিয়ে।ছুটির দিনের আলস্য গায়ে মেখে সকালের নিউজপেপারটা নিয়ে বসলো।দশটার সময় লালচাঁদ দুধওয়ালা এসেছিল।সেই খারাপ খবরটা দিলো।

“তোমাদের উদয়পুরের গোপাল মোড়ল এখন এখানে বাড়ি করে থাকতো না?ওর বউ কাল রাতে বিষ খেয়ে মারা গেছে।”

“সেকি?”

“আমি সাইকেলে আসছিলাম।দেখি রাস্তার উপর একটা আম্বুলেন্স ঘিরে বাড়ির সবাই কাঁদছে।”

“শুনলাম ভোররাতে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।সকাল সাতটার মধ্যে সব শেষ।”

সন্দীপ স্তব্ধ হয়ে গেল মলিনাদেবীর মৃত্যুর খবরটা শুনে।দুপুরে ঠিকঠাক খেতে পারছিল না।কোনো মতে নাকে মুখে দুটি গুঁজে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়লো।এসবির বাড়ি পৌঁছে দেখে বাইরে একটি পুলিশের জিপ দাঁড় করানো।

ভিতরে যেতে দেখে ওসি অবিনাশ রায় কথা বলছেন।

“সব থেকে বড় ভয়ের ব্যাপারটাই ঘটলো।আপনার এভাবে এদেরকে ডাকা ঠিক হয়নি।এতে যারা মানসিক ভাবে দৃঢ় অপরাধী তারা আবার অপরাধ করবে-আপনার ক্ষতি করতে চাইবে।আর যারা মানসিকভাবে দুর্বল তারা suicide এর মতো escapist পথ বেছে নেবে।মলিনাদেবী was the most vulnerable of the lot.”

অবিনাশবাবু বলতে থাকলেন “আমি নিজে কিন্তু এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।আপনি আমার সামনে ভদ্রমহিলাকে তার পূর্ব অপরাধের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।আমার কর্তব্য হলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আপনার এগেইনস্ট এ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা আনা।আমি সেটা করছিনা।আপনার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাকে কর্তব্য পালনে বাধা দিলো।”

অবিনাশবাবু দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন।এসবি চুপ, অমিতাদেবী ও চুপ।

এসবি মুখ খুললেন।

“আমি বুঝতে পারিনি মলিনা এরকম চরম পথ নেবে।”

“কিন্তু ও কি এমন করেছিল যার আত্মগ্লানিতে এই কাজ করল?”

“তোমার ওর মেয়ের কথা মনে আছে?”

“হ্যা।সে তো আমার বনির বন্ধু ছিল।সে ও suicide করেছিল।তাই তো….আত্মহনন এদের রক্তে।”

“আত্মহনন নয় ওর মৃত্যুটা ছিল একটা deliberate murder.”

“আঁ!তুমি কি বলছো?”

অবিনাশবাবুর দিকে চেয়ে এসবি বলতে শুরু করলেন ধরা ধরা গলায়।”হাসি ছিল আমার মেয়ে বনির সব থেকে প্রিয় বান্ধবী।গাঁয়ের মধ্যবিত্ত চাষীর ঘরের মেয়ে।সহজ,সরল,প্রগলভ এবং একটু বোকা।গ্রামের একটি বখাটে ছেলের পাল্লায় পরে সে।বিপথে যায় এবং গর্ভধারণ করে।সে ছেলেটি ছিল নিম্নবর্ণের একজন।রক্ষণশীল গ্রামীন সমাজে ঢি ঢি পরে যাবে এই আশঙ্কায় মিনতি নিজে হাতে তাকে বিষ দিয়ে মারে।”

“তুমি কি করে জানলে?আমি তো কখন ও আন্দাজ করিনি।”আমিতাদেবীর ধরা ধরা গলা।

“তোমার মনে আছে হাসির মৃত্যুর পর তুমি আর আমি উদয়পুর গেছিলাম।গিয়ে দেখলাম সবাই কান্নাকাটি করছে।কিন্তু যার মেয়ে সে স্তব্ধ বাকরুদ্ধ হয়ে আছে।বড় বিস্ময়কর লেগেছিল ব্যাপারটা।পরে অনেক কানাঘুষো শুনতে পেতাম।উদয়পুরের অনেক লোকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আমার।তাদের বিভিন্ন কথায় আমার ধারণা আরও দৃঢ় হয়।”It was a case of honor killing”.পরে মলিনা আমার বাড়িতে এলে মেয়ের ব্যাপারে আলোচনায় ঢুকতেই চাইতোনা।”যে গেছে সে তো আর ফিরবে না”।এই ছিল তার কথা।অশিক্ষা,বর্ণভেদ প্রথা, ভ্রান্ত আত্মগরিমা একজন নিরীহ মানুষকে খুনীতে পরিণত করল।নিজের গর্ভের সন্তানের খুনী।”

No comments:

Post a Comment